গল্পঃ প্রায় হারামী লেখক – ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ

0
69

গল্প – প্রায় হারামী !
.
লেখক – ওয়ালিদ আব্দুল্লাহ
.
মেয়েটার নাম সামান্তা । বড় ঘরের মেয়ে । বড়লোক বাবার মেয়ে । টাকার হিসেব নেই তার বাবার । কিন্তু সবগুলো হারাম পথে কামানো । বাবার উপার্জন করা হারাম অর্থে বেড়ে উঠা মেয়েটার । মেয়েটার প্রতিটা রক্ত , মাংস কণা হারাম টাকায় গড়ে উঠা । তাই মেয়েটার শরীরের প্রতিটা কণা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে সাক্ষ্য দিচ্ছে যে সে প্রায় হারামী ! এই প্রতিটা কণাকে নোংরামু করে কিভাবে নরকের কীটে পরিণত করা যায় তা বোধহয় এই মেয়েটার চেয়ে খুব কম মানুষ ই জানে ।
.
মেয়েটা এই দুনিয়ার মানুষগুলোকে ভালো না বাসলেও তাদের সাথে খেলতে খুব ভালোবাসে । ইয়াবা ফেন্সিডিলের সিরিন্জের ড্রাগের নেশায় মত্ত হয়ে যতদিন খেলতে ভালো লাগে ঠিক ততদিন সে বর্তমানকে ধরে রাখে ।যখনই তার আর খেলার উপর মন বসে না তখনই সে বর্তমানকে অতীতের কাতারে ফেলে চলে যায় আনাগত ভবিষত্‍ এর কাছে ।খেলাটা বর্তমানে তার কাছে একটা নেশা , একটা প্রজেক্ট খুব বড়ই নেশা । দেহের সাথে নেশার খেলা ফলাফল এইচআইভি পজেটিভ ধরা পরে মেয়েটার ! তাতেও দুনিয়ার নেশা কাটে না সামান্তা আর সেই নেশায় মোহিত হয়ে বলি হয়েছে রাকিব , জামান , খালিদ সহ আরো অনেকে ।
.
সামান্তার বর্তমান প্রজেক্ট সামাদ । পুরো নাম সামাদ উল রাফি । ছেলেটার চাকুরিজীবি বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান । প্রচন্ড মেধাবী ছেলেটা নিজের মেধা আর ইচ্ছার উপর ভর করে আজ দেশের অন্যতম বড় ইউনিভার্সিটিতে পড়ছে । সামান্তার সামাদের নিকট থেকে অন্য কিছু নেওয়ার নেই শুধু সামাদকে বিপথগামী করা ছাড়া । এগুলো করাতে তার পৈশাচিক আনন্দ ।সাধাসিধে মুখটা আর ভালোবাসার লোভ দেখিয়ে পটিয়ে ফেলেছিলো সামাদকে । কোনদিন প্রেমের আশ পাশ দিয়ে না যাওয়া ছেলেটা বুঝতে পারে না কিছুই যে কি খেলাটা খেলে যাচ্ছে তার প্রিয়তমা । কিছুদিন মিষ্টি মিষ্টি কথা প্রায়ই দেখা করা সহ নোংরামু কিছুই বাদ যায় না একটা সময় । মানব সমাজের আদীম খেলার মধ্যে দিয়ে শেষ হয় তাদের একসাথে চলার রাস্তা । সামান্তা ছুঁড়ে ফেলে দেয় সামদকে সামাদ যখন বিভর হয়ে সামান্তার প্রেমে মেতেছে ঠিক তখনই । অনেক চেষ্টা অনুরোধ প্রতিশ্রুতি কিন্তু কিছুতেই কাজ হয় না ।শুরু করে আরেক জনের সাথে খেলা তৃপ্তির খেলা মনের খেলা ।
.
সামাদ তখনও নিজের ভুলটা বুঝতে পারে না । সামান্তা তাকে ছেড়ে যাওয়ার পুরো দায়ভার তাই নিজের উপর নিয়ে নেয় । নিজের কপালকে দোষ দিয়ে মাথা চাপড়াতে থাকে । তবে মাথা ব্যাথাটা বুঝতে পারে কিছুদিন পর থেকে ! ভুলটা যখন বড় আকার ধারণ করে তখন সামাদ তার নিজের ভুল বুঝতে পারে । অর্থ্যাত্‍ তার এইডস ধরা পরে ! সামাদ এটাও বুঝতে পারে যে সামান্তার মাধ্যমেই তার মধ্যে এই মরণঘাতী ভাইরাসটা বাসা বেঁধেছে ! সামান্তার জন্য মনের মধ্যে পাহাড় পরিমাণ ঘৃণা জন্মে যায় সামাদের । যাকে বিশ্বাস করে যার জোরাজরিতে কাছে টেনেছিলো সেই কিনা তাকে জেনে শুনে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলো ? সামাদ কিছুতেই আর ভাবতে পারছে না ! পুড়ে যাচ্ছে সে প্রতিহিংসার আগুনে । অন্যদের মতো সে আর ছেড়ে দিবে না সামান্তাকে । সে রুখবে সামান্তাকে যেন অন্য ছেলেদের এই হাল না করতে পারে !
.
যেই শপথ সেই কাজ । পরের দিন ক্লাব থেকে বের হওয়া নেশায় টলতে থাকা সামান্তাকে কিডনাপ করায় কিছু পেশাদার কিডনাপার দিয়ে সামাদ । এরপর শালবনের ভেতর নিয়ে গিয়ে ইট দিয়ে সামান্তার মাথাটা থেতলে দেয় ততক্ষণ যতক্ষণনা দেহ থেকে সামান্তার পাপী আত্নাটা বের হয়ে যায় । খুবই তৃপ্তি পায় সে এরকম একটা পাপ করে । হয়তো এটা পাপ নাও কারণ আরো অনেক পাপের বোঝা থেকে তো সে এই পৃথীবিটাকে রেহাই দিলো ।
.
মানুষ জন্মগত ভাবেই জারজ অথবা হারামী হতে হয় না । জন্ম পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে অনেকেই প্রমাণ করে যে সে হারামী । আজ সামাদ তেমন একজনকেই পৃথীবি থেকে বিদায় করে দিয়েছে । জঙ্গল থেকে বের হয়ে একটা সিগারেট ধরিয়ে হাই ওয়ে ধরে হাঁটা দেয় । হাতে তার ছোপ ছোপ রক্ত আর মুখে বিজয়ের হাসি কারণ সে পেরেছে একজন প্রায় হারামীকে এই দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিতে । হাতের রক্ত মোছার চেষ্টা করে সামাদ কিন্তু মুছতে পারে না পুরোটুকু । মুছতে পারে না নিজের শিরায় শিরায় ঢুকে যাওয়া সামান্তার অস্তিত্ব । তবে কি সামাদও এখন প্রায় হারামী ? হাইওয়ের সামনে তাকায় সামাদ একটা মালা বোঝাই ট্রাক ধেঁয়ে আসছে । সিগারেটের শেষ সুখটানটা দিয়ে নেয় সামাদ আর সামনে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে । মৃত্যুর !
.

Facebook Comments

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here